Home অর্থনীতি বিকাশ অফিসের বরাত দিয়ে প্রতারনার ফাঁদ

বিকাশ অফিসের বরাত দিয়ে প্রতারনার ফাঁদ

158
0

প্রযুক্তির উৎকর্ষতার লেগেছে দেশের প্রায় প্রতিটি সেক্টরে। নানা রকম সেবা এখন মানুষের হাতের মুঠায়। পিছিয়ে নেই ব্যাংকিং সেক্টরও, চালু করেছে মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর মত জনপ্রিয় সব সেবা।

বাংলাদেশে প্রচলিত মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মধ্যে অন্যতম- বিকাশ, রকেট, এমক্যাশ,পিউপেল,সিউর ক্যাশ, নগদ ইত্যাদি। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে এসব মাধ্যমে। তবে নানান নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরেও এইসব ব্যবহার করে প্রতারিত হচ্ছেন অনেকেই। প্রতারণায় সেবাদাতাদের কোন কোন হাত না থাকলেও এটা প্রমাণিত বহির্ভূত একটি চক্র নিখুঁত প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতারিত করছে গ্রাহকদের।
তবে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ বিকাশ মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহকের মাঝেই বেশি দেখা যায়।

ভুক্তভোগী সবসময় তার প্রতারণার কথা বলে যায়। কিন্তু প্রতিকার পায় না। এমনি একজন প্রতারণার শিকার গ্রাহক নিজের অভিজ্ঞতার কথা প্রথমা২৪.কমের বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে। যাতে এরূপ চক্রের দ্বারা কেউ প্রতারিত না হয়।

“বর্তমান আমার সবচেয়ে অর্থনৈতিক ভাবে খারাপ সময় যাচ্ছে…।  খুব কাছের কয়েকজন ভাইকে আমার এই সমস্যার কথা বলেছি। তারা আমার পড়ালেখার খরচ বাবদ সকালের(১৪ জানুয়ারি) দিকে প্রায় ৫০০০ টাকা বিকাশে পাঠিয়ে ছিল। আমি বিকাশে ঐ টাকা পাওয়ার পর নিজের বিকাশ একাউন্টেই রেখে দেই রাতে ওঠাবো বলে।

সন্ধার পর রুমে বসে নিজের পড়া পড়তেছিলাম। হঠাৎ রাত ৮:২৮ মিনিটের দিক এক নম্বর(+8801832683977) থেকে ফোন কল আসে। সাধারণ ভাবেই কলটি অন্য নম্বরের মত রিসিভ করি।
কথা শুরুর দিকে এ নম্বর থেকে কল দেওয়া ব্যক্তি আমাকে বলেন স্যার, আমি বিকাশ হ্যাল্প সেন্টার থেকে কল করেছি আপনার বিকাশ একাউন্ট সম্পর্কে কিছু তথ্য দেওয়ার জন্য। আমি বিকাশ হ্যাল্প সেন্টার নম্বর সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলাম না। কারণ ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর নিয়ে কখনো ঝামেলায় পড়ি নাই। তাই হ্যাল্প সেন্টারে কখনো কল দেওয়া হয়নি।
আমি বললাম ঠিক আছে বলেন….
ঐ ব্যক্তি আমাকে বললেন স্যার, কিছু দিন আগে বিকাশ হালনাগাদের কাজ চলতেছে।এক্ষেত্রে আপনার একাউন্ট এর হালনাগাদ কাজটি করেছেন কি স্যার???   আমি বললাম “না”। তবে প্রয়োজন হলেই করে নেব। তখন ঐ ব্যক্তি আমাকে বলেন স্যার, আপনার হালনাগাদ এর কাজটি না করার জন্য বিকাশ একাউন্ট বন্ধো করে দেওয়া হচ্ছে।

আমি অবুঝের মত ঐ ব্যক্তিকে বলে ফেলি আমার বিকাশে এত পরিমাণ টাকা আছে যা খুবই প্রয়োজন। কিছুক্ষণের মধ্যে ওঠায় নেব। তখন ঐ ব্যক্তি বলেন স্যার এক্ষেত্রে আপনাকে আমি সাহায্য করতে পারি..!  আমি ঘামতে শুরু করেছি, কারণ টাকাটা রাতেই প্রয়োজন ছিল আমার। তখন ঐ ব্যক্তিকে বললাম কী ভাবে সাহায্য করবেন?
তখন উত্তরে তিনি বললেন আপনার কাছে ৬ ডিজিটের একটা বিকাশ সেন্টার থেকে কোড যাবে…
বিকাশ সেন্টারকে কনফার্ম করার জন্য  ঐ কোডটি আমাকে বলুন। সচরাচর  আমার কাছে কোড চলে আসে। আর আমি ঐ মেসেজটা ভালো করে না পড়েই শুধু কোডটা দেখে তাদের বলে ফেলি। এরপর ওরা আমার একাউন্ট সম্পর্কে সব তথ্য বলতেছে। আমি অজানা সত্যে সব কিছু শুনতেছি ও বিশ্বাস করে ফেলেছি। এরপর তারা বলতেছে আপনার একাউন্টে এখন পর্যন্ত টাকা আছে ৪৯৬৯.৫৭ টাকা। মনে মনে ভাবতেছি এত কিছু জানার তো কথা নয়। তখন বিশ্বাস করে ফেললাম তারা বিকাশ সেন্টারের লোক। ইতিমধ্যে +16247 নম্বর থেকে কল এস ছিল। ঐ ব্যক্তি বলতেছে আমরাই কল দিচ্ছি হ্যাল্প সেন্টার থেকে আপনাকে ।

আমি বিশ্বাস করলাম তার কথা, কারণ কল আসতেছে সেটাও তারা বলছেন, যে নম্বর থেকে কল আসছে সেই নম্বরটাও বলতেছে।
আমি ঐ ব্যক্তিকে বললাম আমি টাকাটা ওঠাবো কী ভাবে। তখন তারা বলেন স্যার আপনাকে এই টাকাটা ওঠাতে হলে আবার ৪৫০০ টাকা আপনার একাউন্টে বিকাশ করতে হবে। আমি অবাক হয়ে কথা বলা মুহূর্তে বিকাশ চেক করলাম। দেখতেছি আমার একাউন্টে মাত্র ৫৭ পয়সা। এরপর আমার শরীর কাঁপতেছে।

আমি ঐ ব্যক্তিকে প্রশ্ন করলাম আমার বাকি ৪৯৬৯ টাকা গেল কই??
তখন সে বললো স্যার আপনার একাউন্ট সো করাবে না এখন, যতক্ষণ ৪৫০০ টাকা আবার বিকাশ করছেন না। আমি ঐ মুহূর্তে কিছুই কাউকে বলতেও পারতেছি না, কলটাও কেটে দিতে পারছি না। তখন তাকে প্রশ্ন করলাম আমি আমার ৪৯৬৯ টাকা এখন দেখতে চাই।  আবার সে বললো স্যার এগুলো বিকাশ পলিসি, আপনাকে বিকাশের পলিসি বুঝতে হবে। স্যার আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট না করে  নম্বরে টাকা বিকাশ করুন। তখন আপনার ব্যালেন্স দেখাবে ৯৪৬৯ টাকা। আমি ঐ ব্যক্তিকে বললাম আমার কাছে ৪৫০০ টাকা এই মুহূর্তে নেই৷তখন সে বললো স্যার আপনার পরিচিত বিকাশ  দোকানে যেয়ে বলেন, আমার নম্বরে  ৪৫০০ টাকা বিকাশ করুন।যখন বিকাশ দোকানদার আপনার নম্বরে বিকাশ করবে, তখন সব টাকা আপনি দেখতে পাবেন।সেখান থেকে আপনি যে টাকা সো করাবে তা ঐ  দোকানে বিকাশ করবেন, দেন ৪৫০০ টাকা পরিশোধ করবেন ও আপনার বাকি টাকা নিয়ে নিবেন।

আমি কিছু বুঝে ওঠতে না পেরে পরিচিত দোকানদারের কাছে চলে যাই ও কিছু বুঝার আগেই আবার ৪৫০০ টাকা আমার নম্বরে বিকাশ করি।

তারপর কলটা কেটে দেই। কিন্তু ঐ নম্বর এই মুহূর্তে এত বেশী কল আসা শুরু করেছে যে, আমি একাউন্ট চেক করতে পারছি না। তারপর আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারছি না। সে আবার বলছে স্যার আপনার ব্যালেন্স আমরা দেখতে পেলেম এখনো আগের মত আছে, ব্যালেন্স সো করাচ্ছে না, আপনাকে আবার ৪৫০০  টাকা বিকাশ করতে হবে। তখন ঐ ব্যক্তির কথা আর না শুনেই দোকানদারের কাছে  যাই।ব্যালেন্স চেক করছি কিন্তু কোন টাকা দেখাচ্ছে না।  শুধু দেখা যায় পয়সা…।

এ দিকে পরিচিত দোকানদার বলছেন বাবা টাকাটা দাও….
আমি ঐ মুহূর্তে কি করবো বুঝতেছি পারছিলাম না।
তখন আমার সাথে ঘটে যাওয়া  ঘটনা খুলে বললাম দোকানদার আঙ্কেলকে। আমার একাউন্টে  ৪৯৬৯.৫৭ টাকা ছিল এরপর আপনার কাছ থেকে আরো ৪৫০০ টাকা বিকাশ করি। এখন এক টাকাও আমার বিকাশে নেই…. শুধু পয়সা আছে। এভাবেই  আমার টাকা হাতিয়ে নিয়ে নেয় প্রতারক চক্র।”

এভাবে দৈনন্দিন প্রতারিত হচ্ছেন অসহায় মানুষ। কারো বেতন, দোকান ভাড়া, বাসা ভাড়া, বুয়া বিল, পরীক্ষার ফি, মেস ভাড়া, মার্কেট খরচ এভাবেই হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র।