Home সারা দেশ জাহালম ফেঁসেছিলেন যেভাবে

জাহালম ফেঁসেছিলেন যেভাবে

165
0

সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে আবু সালেক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক।

২৬টি মামলার চার্জশিটে সালেকের নাম ব্যবহার করা হলেও জাহালমকে সালেক নামে গ্রেফতার করা হয়।

পাঁচ বছর আগে সালেককে তলব করে দুদক চিঠি দিলে সেই চিঠি পৌঁছে জাহালমের টাঙ্গাইলের বাড়ির ঠিকানায়। অথচ জাহালম বাড়িতে থাকেন না। তিনি কাজ করেন নরসিংদীর ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুট মিলের শ্রমিক হিসেবে।

পরে ভাই শাহানূর মিয়ার কাছ থেকে খবর পেয়ে বাড়িতে আসেন জাহালম এবং এর পর দুই ভাই একসঙ্গেই যান দুদক কার্যালয়ে।

সেখানে জাহালম দুদককে জানান, তিনি আবু সালেক নন। সোনালী ব্যাংকে তার কোনো অ্যাকাউন্টও নেই। ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আবু সালেকের যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও তার নয়।

কিন্তু দুদকে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা অনুসন্ধানকালে জাহালমকেই ‘আবু সালেক’ হিসেবে শনাক্ত করেন।

এর পর আবার ফিরে যান পাটকলের কাজে।

মামলার চার্জশিট হওয়ার পর জাহালমের বিরুদ্ধে আদালত থেকে তিন বছর আগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঘোড়াশাল থেকে জাহালমকে গ্রেফতার করে দুদক।

পরে আদালতে জাহালম দুদকের পরিচয় বিভ্রাটের বিষয়টি তুলে ধরে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। কিন্তু কেউ তার কথা কানে তোলেননি।

এমনকি দুদকের পিপিরাও বিষয়টি ভালোভাবে পর্যালোচনা করেননি। যে আদালতে বিচার চলছে সেই আদালতের বিচারকও বিষয়টি ভালোভাবে বিবেচনায় নিলে জাহালমকে বিনাকারণে তিন বছর জেলে থাকতে হতো না।

শেষ পর্যন্ত কারও কাছে সমাধান না পেয়ে জাহালমের বড় ভাই শাহানূর মিয়া গত বছর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হন।

তার আবেদনে কাশিমপুর কারাগারে গিয়ে জাহালমের সঙ্গে কথা বলেন কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। পরে মানবাধিকার কমিশনের তদন্তে বেরিয়ে আসে, আবু সালেক আর জাহালম এক ব্যক্তি নন।

এ নিয়ে ৩০ জানুয়ারি একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা হাইকোর্টের নজরে আনেন একজন আইনজীবী।

পরে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ জাহালমকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তির আদেশ দেন।